এস. এম. কামাল হোসেন
লেখক, সংগঠক ও গণমাধ্যম কর্মী।
#মাদকাসক্ত, অশ্লীল ভাষা প্রয়োগকারী ও আক্রমণাত্মক আচরণকারীকে যদি রাজনীতিতে পুরস্কৃত করা হয়,তাহলে সমাজে এসব প্রবণতা কমবে, নাকি বাড়বে?”
#ইতিহাস কাউকে চিরস্থায়ী ক্ষমতার নিশ্চয়তা দেয় না। কিন্তু সুকর্ম, ভালো আচার-ব্যবহার ও শালীন ভাষা মানুষকে সম্মানিত ও স্মরণীয় করে রাখে। বিপরীতে কুকর্ম, আক্রমণাত্মক আচরণ ও অশ্লীল ভাষা একসময় মানুষকে ক্ষমতা ও সম্মান—দুটো থেকেই বিচ্ছিন্ন করে।বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্বাপর ইতিহাস এবং গত পাঁচ-ছয় দশকের ঘটনাবলি একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলেই এর অসংখ্য উদাহরণ পাওয়া যাবে।তবু প্রশ্ন থেকে যায়—অশ্লীল ভাষা, কটূক্তি ও আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক আচরণ দিন দিন বাড়ছে কেন?এর উত্তর খুঁজতে হলে শুধু ব্যক্তিকে নয়, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেও বিশ্লেষণ করতে হবে।
🔴 যখন অশালীনতাই ক্ষমতার হাতিয়ারঃ আশি-নব্বইয়ের দশকে আমার জন্মস্থান থানায় একজন মাদকাসক্ত নেতার আবির্ভাব ঘটেছিল। তাঁর ক্ষমতার অন্যতম উৎস ছিল মাদকদ্রব্য ও অশ্লীল ভাষার ব্যবহার।
তিনি বিএনপি, জাতীয় পার্টি, আবার বিএনপি এবং সর্বশেষ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন সময়ে পদ-পদবি ও জনপ্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন।তাঁর অনেক অনুসারী এখনো একই ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ধরে রেখেছেন।তাই একটি সহজ প্রশ্ন—মাদকাসক্ত, অশ্লীল ভাষা প্রয়োগকারী ও আক্রমণাত্মক আচরণকারী ব্যক্তিকে যদি রাজনীতিতে পুরস্কৃত করা হয়, তাহলে সমাজে এসব প্রবণতা কমবে, নাকি আরও উৎসাহিত হবে?রাজনীতিতে পদ-পদবি কোনো ব্যক্তির কুরুচিপূর্ণ আচরণের পুরস্কার হতে পারে না।
🔴যুক্তির জায়গায় অশ্লীলতা কেন?
যে ব্যক্তি তথ্য ও যুক্তির মাধ্যমে কথা বলতে পারেন না,তিনি অনেক সময় কটু কথা, অশালীন ভাষা ও আক্রমণাত্মক আচরণকে নিজের প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন।মানুষ হয়তো প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করে না; কিন্তু মনে মনে এ ধরনের আচরণকে ঘৃণা করে।আর সেই ঘৃণার নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত ব্যক্তির পাশাপাশি তাঁর দল এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ভাবমূর্তিতেও পড়ে।রাজনীতিতে তাই গলার জোর নয়, যুক্তির জোর প্রয়োজন।
🔴 সিফাত আব্দুল্লাহ প্রসঙ্গঃ
গাজীপুরের গাছা থানার সিফাত আব্দুল্লাহর বিদ্যুৎ বিলের অনিয়ম-সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় ভিডিও প্রচারের বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা অব্যবস্থাপনা থাকলে তার তদন্ত ও প্রতিকারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে। রয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসন, সরকার এবং সর্বশেষ আইনগত ব্যবস্থা।
অতএব, কোনো অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করা কোনোভাবেই সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় হতে পারে না। বরং এটি হয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণের বহিঃপ্রকাশ, নয়তো নষ্ট সমাজ ও রাজনীতির এক অশুভ প্রতিযোগিতার উদাহরণ।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণের আলোকে বিষয়টি জনগণের সামনে আরও পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
🔴 এখন দেখার বিষয়—বিরোধী পক্ষের ভূমিকা কী?যাঁরা সিফাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন বা তাঁর বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছেন, তাঁদের কাছেও স্বাভাবিকভাবেই কিছু প্রশ্ন রয়েছে।যদি তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়,তাহলে তাঁরা কি সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবেন?
নাকি রাজনৈতিক স্বার্থে অশ্লীল বক্তব্যকেও সমর্থন করে যাবেন?
জাতি তাঁদের পরবর্তী ভূমিকা দেখার অপেক্ষায় থাকবে।
🔵 প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি কিছু কথাঃ প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানসহ বিএনপির দায়িত্বশীল নেতা ও মন্ত্রীদের প্রতি বিনীতভাবে কিছু কথা বলতে চাই।মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সরকার ও দলের পক্ষে যে ধরনের ইতিবাচক, তথ্যভিত্তিক ও কার্যকর জনসংযোগ প্রয়োজন, তার জায়গায় এখনো যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।বিষয়টি যত দ্রুত উপলব্ধি করা যাবে, ততই ভালো। কারণ আপনি যে মানবিক ও গণতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে দেশ পরিচালনার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন, তার গুরুত্ব তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত সবাই সমানভাবে উপলব্ধি করতে পারছেন না।
🔵যুক্তির বদলে গালাগালি—এখনই বন্ধ করুনঃ
আপনার পক্ষে কথা বলতে গিয়ে কিছু নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ কিংবা বিরোধী পক্ষের প্রশ্নের সঠিক ও যুক্তিনির্ভর উত্তর দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন।তখন শুরু হচ্ছে—অপমানের প্রতিযোগিতা।
কটু ভাষার ব্যবহার।ব্যক্তিগত আক্রমণ।অশালীন বক্তব্য।যুক্তি দিয়ে উত্তর দিতে না পারলে তাঁরা রেগে যান।তথ্য দিয়ে ভুল প্রমাণ করার পরিবর্তে কটু ভাষায় আক্রমণ করেন। তর্কে পিছিয়ে পড়লে ভাষা হয়ে ওঠে আরও হিংস্র ও অশালীন।এদের এখনই থামানো দরকার।
🔵 সামনে আনুন শিক্ষিত ও যুক্তিবাদী নেতৃত্বঃ রাজনীতিতে এমন মানুষদের সামনে আনতে হবে, যারা—
তথ্য দিয়ে কথা বলতে জানেন,
যুক্তি দিয়ে মানুষের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন,
ভিন্নমতকে সম্মান করেন,
শালীন ভাষায় রাজনৈতিক বিতর্ক করতে পারেন;
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দক্ষ;
এবং প্রয়োজনে কঠিন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতেও সক্ষম।
#বিএনপি, অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।নেতৃত্ব নির্বাচনে যোগ্যতা, সততা, কর্মদক্ষতা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও মাদকমুক্ত জীবনযাপনকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
🔵 কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতা ভুলে গেলে চলবে নাঃ
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কঠিন। দেশের বিপুলসংখ্যক মধ্যবিত্ত মানুষ অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।যাঁরা দেশ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও বিএনপির আদর্শ ধারণ করেন,তাঁরা দেশের বর্তমান সংকটের কারণ সম্পর্কে অবগত।তাঁরা বর্তমান সরকারের পথচলার শুরু দেখে আশাবাদী।তাঁদের প্রত্যাশা—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ধীরে ধীরে দেশের অর্থনীতি ও অন্যান্য সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।কিন্তু রাতারাতি একটি দেশের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়—এ বাস্তবতাও সবাইকে বুঝতে হবে।
🔵 রাজনীতিও এক ধরনের তথ্যযুদ্ধঃ
বিরোধী পক্ষ সরকারের প্রতিটি দুর্বলতা খুঁজে বের করবে—এটাই রাজনীতির স্বাভাবিক বাস্তবতা।কিন্তু সেই দুর্বলতার সঙ্গে যদি মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব যুক্ত করে প্রতিদিন মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে তার মোকাবিলায় শুধু আবেগ যথেষ্ট নয়।
#প্রয়োজন তথ্য, যুক্তি, দক্ষতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা।রাজনীতির এই তথ্যযুদ্ধে জয়ী হতে হলে বিএনপি, অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অনলাইন ও অফলাইন—উভয় ক্ষেত্রেই দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
🔵 দলকে জবাবদিহির মধ্যে আনতে হবেঃ
দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে কার্যকর পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
★কমিটি গঠন ও পরিবর্তন, সাংগঠনিক কার্যক্রম, নেতাকর্মীদের আচরণ এবং জনসম্পৃক্ততা—সবকিছু নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মনিটরিং করা দরকার।দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তাঁর পরিচয় নয়, তাঁর অপরাধই যেন বিবেচনার বিষয় হয়।
দলীয় পরিচয় কোনো অপরাধের ঢাল হতে পারে না।🔵 প্রধানমন্ত্রীর মানবিকতাকে দুর্বলতা ভাবা যাবে নাঃ
#প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের মহানুভবতা ও মানবিকতার মানসিকতাকে যদি কেউ দুর্বলতা মনে করে, তাহলে সেটি শুধু সরকারের নয়—পুরো রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর।
বিএনপি কিংবা সহযোগী সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।
★কতিপয় দুষ্কৃতকারী ও সুবিধাভোগীর অপকর্মের কারণে একটি দলের কোটি মানুষের প্রত্যাশা ও আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেওয়া যায় না।
🔴শেষ কথাঃ রাজনীতির সংস্কৃতি বদলাতেই হবেঃ
মোদ্দা কথা হলো—রাজনীতির সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে খারাপ ও দুষ্ট চরিত্রের মানুষের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও কঠোর অবস্থান গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।
#রাজনীতিতে পদ-পদবি যেন অশ্লীলতা, মাদকাসক্তি, কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও আক্রমণাত্মক আচরণের পুরস্কার না হয়।বরং—সততা, শালীনতা, যোগ্যতা, যুক্তিবোধ, কর্মদক্ষতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের মূল্যায়ন হোক।
★চিৎকার করে নয়—যুক্তি দিয়ে রাজনীতি হোক।★অপমান করে নয়—মানুষের হৃদয় জয় করে রাজনীতি হোক।
★অশালীনতা দিয়ে নয়—শালীনতা, সততা ও আদর্শ দিয়ে রাজনীতির নতুন সংস্কৃতি গড়ে উঠুক।
এস. এম. কামাল হোসেন
লেখক, সংগঠক ও গণমাধ্যম কর্মী।
বরুন আচার্য ( উপদেষ্টা ) ।। কালিমুল্লাহ ইকবাল ( প্রধান সম্পাদক ) ।। এ কে এম আজিজুল হক ( সহকারী সম্পাদক ) ।। মনির হোসেন চৌধুরী ( বার্তা সম্পাদক ) ।। ইসমাইল হোসেন ( প্রকাশক ) ।। শাহাদাত হোসেন কামাল ( নির্বাহী সম্পাদক )
Address: Ma Villa, Shikdar Bari, Ground Floor , Abdullahpur, Sector -8, Uttara, Dhaka -1230 ,
Email : info@ganamadhamcantha.com , Website : ganamadhamcantha.com
Copy Write : sonmmc.com