বাংলাদেশের পরীক্ষা! এস. এম কামাল হোসেন।
সরকারকে সময় দিন, তবে চোখ বন্ধ করে নয়,
বাংলাদেশ আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।
বর্তমান সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মানসিকতাও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।কারণ একটি দেশের ভবিষ্যৎ শুধু একটি সরকারের ওপর নির্ভরশীল নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্ব কীভাবে দল পরিচালনা করছে, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কী শিক্ষা দিচ্ছে এবং ক্ষমতা সম্পর্কে তাদের মানসিকতা কী—তার ওপরও দেশের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভরশীল।
#আমাদের দেখতে হবে—
তারা কি চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে?
তারা কি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে?
তারা কি দুর্নীতির বিরুদ্ধে?
তারা কি ভিন্নমতকে সম্মান করে?
তারা কি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে?
তারা কি প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে চায়?
তারা কি জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে প্রস্তুত?
এসবই হওয়া উচিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব মূল্যায়নের প্রধান মানদণ্ড।
#শুধু বক্তৃতা, স্লোগান কিংবা রাজনৈতিক আবেগ দিয়ে নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।
নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রয়োজন।
#বর্তমান সরকারের ভুল থাকলে অবশ্যই সমালোচনা করতে হবে। কিন্তু সেই সমালোচনা হতে হবে তথ্যভিত্তিক, যুক্তিনির্ভর ও শালীন।
একইভাবে সরকারের ভালো উদ্যোগকে শুধু রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে অস্বীকার করাও দায়িত্বশীল নাগরিকের কাজ নয়।সরকারকে সময় দিতে হবে—কিন্তু চোখ বন্ধ করে নয়।
সমর্থন করতে হবে-কিন্তু আবেগ থেকে নয়,
সমালোচনা করতে হবে—কিন্তু বিদ্বেষ থেকে নয়।
রাজনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণ করতে হবে শুধু তাদের বক্তব্য দিয়ে নয়,তাদের কাজ, সিদ্ধান্ত, চরিত্র, নেতৃত্বের মানসিকতা এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা দিয়ে।
দেশের পরিবর্তন শুধু সরকার, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী কিংবা রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব নয়।একজন নাগরিক যখন চাঁদাবাজকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সমর্থন করেন, তখন তিনিও সমস্যার অংশ।
একজন ব্যবসায়ী যখন সুবিধার জন্য অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেন, তিনিও সমস্যার অংশ।
একজন শিক্ষিত ব্যক্তি যখন সত্য জেনেও ক্ষমতাবানের ভয়ে নীরব থাকেন,তিনিও সমস্যার অংশ।
আর একজন রাজনৈতিক কর্মী যখন নিজের দলের অন্যায়কে অন্যায় বলতে পারেন না, তখন তিনিও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশে বাধা সৃষ্টি করেন।
#তাই নতুন বাংলাদেশ চাইলে আমাদের নিজেদেরও পরিবর্তন করতে হবে।
লোভের পরিবর্তে নীতি, ব্যক্তিস্বার্থের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
#কোনো ব্যক্তি বা দলের চিরস্থায়ী ক্ষমতা নয়—আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে চাঁদাবাজ, দখলদার, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী ও স্বৈরাচারী মানসিকতার কোনো রাজনৈতিক আশ্রয় থাকবে না।
#ক্ষমতা জনগণের,রাষ্ট্র জনগণের,বাংলাদেশও জনগণের।
তাই আসুন—
ব্যক্তি নয়—নীতি দেখি।
দল নয়—দেশকে অগ্রাধিকার দিই।
আবেগ নয়—বিবেক দিয়ে বিচার করি।
অপপ্রচার নয়—তথ্যভিত্তিক সত্যকে গ্রহণ করি।
#বাংলাদেশ হোক সবার—কোনো ব্যক্তি, পরিবার কিংবা দলের একক সম্পত্তি নয়।
এস. এম. কামাল হোসেন।
লেখক, সংগঠক ও গণমাধ্যম কর্মী।
Generating your photocard...