Skip to main content

দৈনিক গণমাধ্যম কন্ঠ

All NewsTechonologyএআইপ্রযুক্তিশিক্ষা

লাগামহীন প্রযুক্তির দৌড়: অস্তিত্বের ঝুঁকিতে মানবজাতি?

বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির সবচেয়ে বড় আলোড়ন—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)। তবে এই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ও অতি দ্রুত বিকাশ এখন আশীর্বাদের চেয়ে বেশি আতঙ্ক তৈরি করছে খোদ এর নির্মাতাদের মনেই। অ্যানথ্রোপিকের (Anthropic) সাবেক গবেষক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এআই-এর অগ্রগতির লাগাম এখনই টেনে না ধরলে মানবজাতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাদের মতে, এই শিল্পে এখন কেবল গতি বাড়ানোর ‘এক্সিলারেটর’ বা এক্সিলারেটর আছে, কিন্তু কোনো ‘ব্রেক পেডাল’ নেই। [1, 2]

প্রযুক্তি খাতের বিপুল বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতা

চলতি বছরে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই প্রযুক্তিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করার পূর্বাভাস দিয়েছে। মেটা, মাইক্রোসফট এবং গুগলের মতো জায়ান্টরা তাদের মূলধনী ব্যয়ের একটি বিশাল অংশ এআই উন্নয়নে ঢালছে। এই তীব্র প্রতিযোগিতার ফলে একের পর এক শক্তিশালী মডেল বাজারে আসছে, যা মানুষের চিন্তাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তাকে প্রতিস্থাপন করতে শুরু করেছে। [1]

চাকরির বাজারে বড় ধস নামার আশঙ্কা

মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এক সতর্কবার্তায় বলেছেন, এআই মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজগুলোকে দখল করে নেওয়ার ফলে ইতিহাসের অন্যতম এক অস্থির যুগের সূচনা হবে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক পলিসি রিসার্চের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই-এর কারণে বিশ্বজুড়ে প্রায় অর্ধেক ‘হোয়াইট কলার’ বা মেধাভিত্তিক চাকরি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে, যার ফলে বৈশ্বিক বেকারত্বের হার এক ধাক্কায় ২০ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে বেকারত্বের হার ৪.৯ শতাংশ, যা ২০ শতাংশে পৌঁছালে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ দুর্ভোগ তৈরি হবে। [1]

বিশ্বজুড়ে নিয়ন্ত্রণের দাবি

পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে সম্প্রতি প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন এআই গবেষক এক খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করে মার্কিন সরকারসহ বিশ্ব নেতাদের প্রতি এআই উন্নয়নের সীমানা নির্ধারণ ও কঠোর নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন। গবেষকদের মতে, প্রযুক্তি যেভাবে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তাতে এখনই আন্তর্জাতিক নীতিমালা তৈরি না করলে ভবিষ্যতে একে থামানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। [1, 2]

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

ভার্চুয়াল ক্যারিয়ার কোচিং প্ল্যাটফর্মগুলোর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির যুগে টিকে থাকতে হলে মানুষকে এখন থেকেই নতুন কোনো একক দক্ষতা বা মেধার ওপর নির্ভর না করে বহুমুখী সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং আয়ের নতুন প্রযুক্তিগত দক্ষতা শিখতে হবে। নিজেকে প্রতিনিয়ত আপডেট রাখার কোনো বিকল্প নেই

Share this news as a Photo Card

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

PhotoCard Icon
Create PhotoCard
14 September 2026

লাগামহীন প্রযুক্তির দৌড়: অস্তিত্বের ঝুঁকিতে মানবজাতি?

ganamadhamcantha.com |
facebook.com/ganamadhamcantha/